মরিঙ্গা অয়েল যত গুণে ভরা

সৌন্দর্য চর্চার সূচনা করেছিলো মিশরীয়রা আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে। সেই সময়ে তারা চুল ও ত্বকের যত্নে এক ধরনের তেল ব্যবহার করতেন। সেই তেলটি হলো এ সময়ের জনপ্রিয় “মরিঙ্গা অয়েল”।

সজনে আমাদের খুব পরিচিত একটি সব্জি। এর বীজ থেকেই তৈরি হয় এই অসাধারণ তেলটি। সজনে গাছকে ‘মিরাক্যাল ট্রি’ বলা হয়। কারণ এ গাছের পাতা, ফল, বাকল, বীজ – খাদ্য হিসেবে, ঔষধে এবং প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। আসুন জেনে নেই চুল এবং ত্বকের যত্নে মরিঙ্গা অয়েলের ব্যবহার।

ত্বকের যত্নে
মরিঙ্গা অয়েল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেলের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
যাদের ত্বক খুব শুষ্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে সোরিয়াসিস বা এটোপিক ডার্মাটাইটিস এর মত ত্বকের রোগে ভুগছেন তারা ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শরীরে ব্যবহার করতে পারেন এই তেলটি। কারণ এখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড।

মরিঙ্গা অয়েলে অলিক এসিড থাকায় বিভিন্ন ক্লিনজারে এটি ব্যবহার করা হয়।

 

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মরিঙ্গা অয়েল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্রেসর এবং সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে থেকে যে ফ্রি-রেডিক্যাল তৈরি হয় তা থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এজন্য এন্টি-এজিং সেরাম এবং ক্রিমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মরিঙ্গা অয়েলে বিদ্যমান ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ই’ নতুন কোষ তৈরি করে ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

ক্র‍্যাক হিল বা পা ফাঁটার সমাধান হতে পারে মরিঙ্গা অয়েল। এমনকি ঠোঁটের আবরনের সুরক্ষায় চমৎকার ভূমিকা পালন করে এই মরিঙ্গা অয়েল।

গর্ভাবস্থায় মেয়েদের ত্বকে স্ট্রেচমার্ক পরার সম্ভাবনা থাকে। যারা মা হবার পরিকল্পনা করছেন তারা যদি গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই যে জায়গা গুলোতে স্ট্রেচমার্ক পরতে পারে সেখানে মরিঙ্গা অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে তা স্ট্রেচমার্কের সম্ভাবনা কমিয়ে আনে।

নখের যত্নে
মরিঙ্গা অয়েলে রয়েছে আটটি এসেনশিয়াল অ্যামাইনো এসিড যা ক্যারাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন তৈরি করে। আমরা জানি, আমাদের ত্বক, চুল ও নখে থাকে এই ক্যারাটিন।
ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব, অতিরিক্ত নেইল পলিশ বা নেইল রিমুভার ব্যবহার, এবং আর্টিফিশিয়াল নেইলে যে আঠা ব্যবহার করা হয় তা ক্যারাটিন নষ্ট করে। নখ হয়ে ওঠে বিবর্ণ এবং ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতা প্রতিরোধে নিয়মিত মরিঙ্গা অয়েল ম্যাসাজে ভালো ফল পাওয়া যায়।